1. bditwork247@gmail.com : Zahid Hassan : Zahid Hassan
  2. sixteentv13@gmail.com : sixteennews :
সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:১৬ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
নির্বাহী প্রকৌশলী পদায়নে ‘লটারি কারসাজি’র অভিযোগ! পাঁচ বাক্সে পছন্দের নাম, ঢাকায় থাকতে ঘুষ-নেপথ্যে কারা, নীরব কেন কর্তৃপক্ষ? নারায়ণগঞ্জে গার্মেন্টস কারখানার প্রবেশপথ বন্ধের অভিযোগ, ৭৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি! শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তা সরোয়ার হোসেনের আওয়ামী লীগ কানেকশন নিয়ে প্রশ্ন ৮ লাখের সরকারি বিল পেতেই ৩ লাখ টাকা দাবি! বানারীপাড়ায় শিক্ষক সমিতির নেতার বিরুদ্ধে ‘চাঁদা দাবির’ বিস্ফোরক অভিযোগ। নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট তারিখ জানতে চায় জনগণ সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার প্রতিবাদে ঢাবিতে মশাল মিছিল ঐতিহাসিক জুলাই যে বৃহত্তর ঐক্য তৈরি করেছে তা টিকিয়ে রাখতে হবে ঢাবির ৮ শিক্ষার্থী পেলেন ‘আয়েশা-আমিরুল ট্রাস্ট ফান্ড বৃত্তি’ জাবিতে হাসিনার পলায়ন দিবস উদযাপনে মিষ্টি বিতরণ শুল্ক কমিয়ে ২০ শতাংশ, সরকারকে সাধুবাদ ফখরুলের

নির্বাহী প্রকৌশলী পদায়নে ‘লটারি কারসাজি’র অভিযোগ! পাঁচ বাক্সে পছন্দের নাম, ঢাকায় থাকতে ঘুষ-নেপথ্যে কারা, নীরব কেন কর্তৃপক্ষ?

Reporter Name
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬
  • ২০ Time View

এক পদে এক বাক্সে লটারি হওয়ার কথা, অভিযোগ পাঁচটি পৃথক বাক্সে নাম সাজানোর! স্বজনপ্রীতি, গ্রুপিং ও অর্থের বিনিময়ে পছন্দের কর্মস্থল নিশ্চিত করার অভিযোগে প্রশ্নবিদ্ধ পদায়ন প্রক্রিয়া,মন্ত্রীর অজান্তেই কি সাজানো হয়েছিল সুবিধার ছক? প্রধান প্রকৌশলীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

 

নিজস্ব প্রতিবেদক।।সবার সামনে লটারি, কিন্তু ফল নির্ধারণের পদ্ধতি নিয়েই যদি ওঠে গুরুতর প্রশ্ন,তাহলে সেই লটারি কতটা নিরপেক্ষ? সরকারি কর্মকর্তাদের পদায়নে স্বচ্ছতা ও সমান সুযোগ নিশ্চিত করার কথা থাকলেও নির্বাহী প্রকৌশলীদের পদায়ন প্রক্রিয়াকে ঘিরে উঠেছে স্বজনপ্রীতি, গ্রুপিং, পছন্দমতো কর্মস্থল বেছে নেওয়া এবং অর্থের বিনিময়ে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে পাঁচটি পৃথক বাক্সে কর্মকর্তাদের নাম রাখার বিষয়টি, যা নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে তৈরি হয়েছে বিতর্ক।

 

অভিযোগকারীদের দাবি, একই পদে পদায়নের জন্য যেখানে একটি নির্ধারিত পদ্ধতিতে লটারি পরিচালিত হওয়ার কথা, সেখানে পছন্দ ও গ্রুপভিত্তিক বিবেচনায় পাঁচটি পৃথক বাক্সে নাম রেখে লটারি পরিচালনা করা হয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, এভাবে নাম বিন্যাস ও লটারির পদ্ধতি নির্ধারণ করা হয়ে থাকলে তা পদায়ন প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করে। এমনকি অর্থের বিনিময়ে নির্দিষ্ট কর্মকর্তাদের পছন্দের কর্মস্থল নিশ্চিত করার অভিযোগও সামনে এসেছে।

 

তবে পাঁচটি বাক্সে নাম রাখার পদ্ধতি বিধিমালার পরিপন্থী ছিল কি না, এ বিষয়ে কোনো লিখিত নির্দেশনা, মূল লটারির কার্যবিবরণী কিংবা প্রামাণ্য নথি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। একইভাবে ঘুষ, গ্রুপিং ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগের সত্যতাও এখনো প্রতিষ্ঠিত নয়। ফলে অভিযোগগুলোকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই; বরং মূল নথি প্রকাশ, সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য গ্রহণ এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমেই প্রকৃত চিত্র বের করা জরুরি।

 

পাঁচ বাক্সে পাঁচ হিসাব? লটারির স্বচ্ছতা নিয়ে বড় প্রশ্ন!

 

অভিযোগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো লটারির জন্য নাম বিন্যাসের পদ্ধতি। অভিযোগকারীদের বক্তব্য, একই পদে থাকা কর্মকর্তাদের জন্য একটি বাক্সে লটারি পরিচালনার পরিবর্তে পাঁচটি পৃথক বাক্সে নাম রাখা হয়েছে। তাঁদের দাবি, এই পদ্ধতির মাধ্যমে পছন্দ অনুযায়ী কর্মকর্তাদের গ্রুপ তৈরি করে পদায়নের ফলকে প্রভাবিত করার সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছিল।

 

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, লটারি যদি সত্যিকার অর্থেই দৈবচয়নভিত্তিক ও নিরপেক্ষ হয়ে থাকে, তাহলে একাধিক বাক্সে নাম রাখার প্রয়োজন কেন হয়েছিল? পাঁচটি বাক্স ব্যবহারের পেছনে কোনো লিখিত প্রশাসনিক নির্দেশনা ছিল কি? থাকলে সেটি কে অনুমোদন করেছেন? প্রতিটি বাক্সে কোন কোন কর্মকর্তার নাম রাখা হয়েছিল, সেই তালিকা কি সংরক্ষিত আছে? আর নামগুলো কোন নীতিতে ভাগ করা হয়েছিল?

লটারি পরিচালনার আগে যদি কর্মকর্তাদের নাম নির্দিষ্ট শ্রেণি বা গ্রুপে ভাগ করা হয়ে থাকে, তাহলে সেই শ্রেণিবিন্যাসের যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা করা প্রয়োজন। কারণ, লটারির মূল উদ্দেশ্যই হলো নির্ধারিত নিয়মে পক্ষপাতহীনভাবে ফল নির্ধারণ করা। প্রক্রিয়ার নকশা যদি কাউকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার সুযোগ তৈরি করে, তাহলে শুধু লটারি আয়োজন করলেই স্বচ্ছতা নিশ্চিত হয় না।

অতএব, লটারির ভিডিও ফুটেজ, ব্যবহৃত বাক্সের সংখ্যা, অংশগ্রহণকারীদের পূর্ণ তালিকা, নাম বণ্টনের নীতিমালা, কার্যবিবরণী এবং চূড়ান্ত পদায়ন আদেশ পাশাপাশি যাচাই করা প্রয়োজন। এসব নথিই বলে দিতে পারে, লটারি ছিল প্রকৃত অর্থে নিরপেক্ষ, নাকি পদ্ধতি নিয়েই তৈরি হয়েছিল বিতর্কের অবকাশ।

পাঁচজনের গ্রুপ নিয়ে বিতর্ক: আগে থেকেই কি তৈরি ছিল সুবিধার ছক?

নির্বাহী প্রকৌশলীদের পদায়ন ঘিরে পাঁচজনকে নিয়ে গ্রুপভিত্তিক সুবিধা দেওয়ার অভিযোগও সামনে এসেছে। অভিযোগটি সত্য হলে প্রশ্ন উঠবে, সরকারি পদায়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে কর্মকর্তাদের মধ্যে এমন কোনো গ্রুপ তৈরি হয়েছিল কি না, যার মাধ্যমে নির্দিষ্ট কর্মস্থল পাওয়ার ক্ষেত্রে কেউ বাড়তি সুবিধা পেয়েছেন।

কোন পাঁচজনকে নিয়ে গ্রুপ তৈরির অভিযোগ উঠেছে? তাঁদের নাম কীভাবে নির্ধারণ করা হয়েছিল? তাঁরা কি একই বাক্সে ছিলেন, নাকি পৃথক বাক্সে নাম রাখার মাধ্যমে তাঁদের জন্য আলাদা ফল পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছিল? চূড়ান্ত পদায়নের সঙ্গে লটারির ফল মিলিয়ে দেখলে কি কোনো অস্বাভাবিকতা পাওয়া যায়?

এসব প্রশ্নের উত্তর ছাড়া গ্রুপিংয়ের অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। তবে অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত নামের তালিকা, বাক্সভিত্তিক বিন্যাস ও পদায়নের ফলাফল প্রকাশ করে বিষয়টি পরিষ্কার করা।

লটারি যদি নিয়ম মেনেই হয়ে থাকে, তাহলে নথি দেখাতে আপত্তি কোথায়? আর নিয়ম ভঙ্গের প্রমাণ মিললে দায় নেবে কে?

ঢাকায় থাকার সুযোগ নিয়ে ঘুষের অভিযোগ: কার জন্য নিয়ম, কার জন্য ব্যতিক্রম?

পদায়ন বিতর্কের আরেকটি গুরুতর দিক হলো, অর্থের বিনিময়ে ঢাকায় অবস্থান বা পছন্দের কর্মস্থল নিশ্চিত করে দেওয়ার অভিযোগ। অভিযোগকারীদের দাবি, নিয়ম অনুযায়ী ঢাকার বাইরে দায়িত্ব পালনের কথা থাকা কিছু জুনিয়র নির্বাহী প্রকৌশলীও ঢাকায় থাকার সুযোগ পেয়েছেন। এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মধ্যে বৈষম্য ও বিশেষ সুবিধা দেওয়ার প্রশ্ন উঠেছে।

তবে কারা ঢাকায় পদায়িত হয়েছেন, তাঁদের পদায়নের বিধিসম্মত ভিত্তি কী এবং অর্থ লেনদেনের কোনো প্রমাণ রয়েছে কি না,এসব বিষয়ে যাচাইকৃত নথি এখনো সামনে আসেনি। ফলে ঘুষের অভিযোগকে প্রমাণিত ঘটনা হিসেবে উপস্থাপন করা সমীচীন নয়। কিন্তু অভিযোগটি গুরুতর হওয়ায় তা এড়িয়ে যাওয়ারও সুযোগ নেই।

কর্তৃপক্ষের কাছে কয়েকটি সরাসরি প্রশ্ন,ঢাকায় পদায়ন বা অবস্থানের জন্য কী নীতিমালা অনুসরণ করা হয়েছে?যাঁরা ঢাকায় থাকার সুযোগ পেয়েছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে কী প্রশাসনিক যুক্তি দেখানো হয়েছে?একই পদে কর্মরত অন্য কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রেও কি একই নীতি প্রয়োগ করা হয়েছে?কোনো ব্যতিক্রমী পদায়ন হয়ে থাকলে তা কে অনুমোদন করেছেন?অর্থের বিনিময়ে পছন্দের কর্মস্থল নিশ্চিত করার অভিযোগ তদন্তে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে কি?আর্থিক লেনদেন, যোগাযোগের তথ্য বা অন্য কোনো প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে?

সরকারি পদায়ন কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত পছন্দ পূরণের ব্যবস্থা নয়। প্রশাসনিক প্রয়োজন, দায়িত্বের ধরন ও বিধিমালা অনুযায়ী কর্মস্থল নির্ধারণ করা হলে তার ব্যাখ্যা থাকা উচিত। আর নিয়মবহির্ভূত সুবিধা দেওয়ার প্রমাণ মিললে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।

মন্ত্রী কি পুরো প্রক্রিয়া জানতেন, নাকি সিদ্ধান্তের আড়ালে ছিল অন্য হিসাব?

এ ঘটনায় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, পদায়ন প্রক্রিয়ার নকশা, লটারির পদ্ধতি এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সম্পর্কে দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীকে কী ধরনের তথ্য জানানো হয়েছিল।

অভিযোগকারীদের বক্তব্য অনুযায়ী, পাঁচটি পৃথক বাক্সে নাম রাখার বিষয়টি যদি সত্য হয়ে থাকে, তাহলে এ পদ্ধতি অনুমোদনের আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী ব্যাখ্যা দিয়েছিল, তা জানা প্রয়োজন। মন্ত্রী কি পুরো প্রক্রিয়ার বিস্তারিত জানতেন? তিনি কি নাম বিন্যাস ও বাক্সভিত্তিক লটারির পদ্ধতি সম্পর্কে অবহিত ছিলেন? নাকি তাঁকে কেবল চূড়ান্ত ফলাফল জানানো হয়েছিল?

মন্ত্রীকে না জানিয়ে কোনো অনিয়ম করা হয়েছে,এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো যাচাইকৃত তথ্য এখনো নেই। একইভাবে তিনি সবকিছু জানতেন বলেও প্রমাণ ছাড়া দাবি করা যায় না। তবে মন্ত্রীর অনুমোদন বা উপস্থিতি যদি প্রক্রিয়ার অংশ হয়ে থাকে, তাহলে সেই অনুমোদনের ভিত্তি ও নথি প্রকাশ করা প্রয়োজন।

এখানে মূল প্রশ্ন কোনো ব্যক্তিকে দায়ী করা নয়; বরং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রতিটি ধাপ কতটা স্বচ্ছ ছিল, কার কী ভূমিকা ছিল এবং নিয়ম অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, তা নির্ধারণ করা।

প্রধান প্রকৌশলীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন, বক্তব্য পাওয়া যায়নি!

নির্বাহী প্রকৌশলীদের পদায়ন প্রক্রিয়া পরিচালনা ও বাস্তবায়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে, লটারির পদ্ধতি নির্ধারণ, কর্মকর্তাদের নাম বিন্যাস, ফলাফল চূড়ান্ত করা এবং পদায়ন আদেশ জারির প্রতিটি ধাপে কারা দায়িত্ব পালন করেছেন, তা স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রধান প্রকৌশলীর বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।

তবে বক্তব্য না পাওয়া মানেই অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হয়েছে,এমন নয়। একইভাবে কর্তৃপক্ষের নীরবতা থাকলে অভিযোগের নিষ্পত্তিও হয় না। বরং এ ধরনের পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের উচিত আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেওয়া এবং প্রয়োজনীয় নথি যাচাইয়ের সুযোগ তৈরি করা।

তদন্তের আওতায় আসা প্রয়োজন যেসব নথি ও প্রশ্ন!

পদায়ন নিয়ে ওঠা অভিযোগের নিরপেক্ষ নিষ্পত্তির জন্য শুধু মৌখিক বক্তব্য যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন নথিভিত্তিক অনুসন্ধান। বিশেষ করে,
লটারির বিধিমালা ও নির্দেশনা: একই পদে পদায়নের ক্ষেত্রে নির্ধারিত পদ্ধতি কী ছিল এবং পাঁচটি বাক্স ব্যবহারের কোনো অনুমোদন ছিল কি না।নামভিত্তিক তালিকা: লটারিতে অংশ নেওয়া কর্মকর্তাদের পূর্ণ তালিকা, বাক্সভিত্তিক নাম বিন্যাস এবং তালিকা প্রস্তুতের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের পরিচয়।লটারির কার্যবিবরণী ও ভিডিও: লটারি কীভাবে পরিচালিত হয়েছে, কারা উপস্থিত ছিলেন এবং ফলাফল কীভাবে নির্ধারিত হয়েছে।চূড়ান্ত পদায়ন আদেশ: লটারির ফলাফলের সঙ্গে চূড়ান্ত আদেশের মিল রয়েছে কি না, কোনো পরিবর্তন বা ব্যতিক্রম ঘটেছে কি না।পাঁচজনের গ্রুপের অভিযোগ, গ্রুপভিত্তিক সুবিধা দেওয়ার অভিযোগের পক্ষে কোনো নথি, যোগাযোগের তথ্য বা প্রত্যক্ষ সাক্ষ্য রয়েছে কি না।ঢাকায় পদায়নের যৌক্তিকতা: ঢাকায় থাকা কর্মকর্তাদের পদায়ন বা অবস্থানের ক্ষেত্রে কোন বিধি, প্রশাসনিক প্রয়োজন কিংবা অনুমোদিত ব্যতিক্রম অনুসরণ করা হয়েছে। ঘুষের অভিযোগ: আর্থিক লেনদেন, ব্যাংকিং তথ্য, যোগাযোগের রেকর্ড কিংবা অন্য কোনো গ্রহণযোগ্য প্রমাণ রয়েছে কি না,তা আইনসম্মতভাবে যাচাই করা।দায়িত্ব নির্ধারণ, লটারির পদ্ধতি অনুমোদন, বাস্তবায়ন ও চূড়ান্ত পদায়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভূমিকা কী ছিল।

এসব বিষয় যাচাই করা গেলে অভিযোগের সত্যতা, ভুল বোঝাবুঝি এবং প্রকৃত অনিয়মের মধ্যে পার্থক্য নির্ধারণ করা সম্ভব হবে।

কর্তৃপক্ষের কাছে ছয়টি কঠিন প্রশ্ন… একই পদে পদায়নের লটারি পরিচালনায় পাঁচটি পৃথক বাক্স ব্যবহারের সিদ্ধান্ত কে নিয়েছিলেন এবং কোন বিধির ভিত্তিতে?কর্মকর্তাদের নাম কি কোনো নির্দিষ্ট পছন্দ, শ্রেণিবিন্যাস বা গ্রুপ অনুযায়ী ভাগ করা হয়েছিল? হয়ে থাকলে সেই সিদ্ধান্তের লিখিত ভিত্তি কী?পাঁচজনের গ্রুপকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে কর্তৃপক্ষের বক্তব্য কী?ঢাকায় পদায়ন বা অবস্থানের ক্ষেত্রে সব কর্মকর্তার জন্য একই নীতি অনুসরণ করা হয়েছে কি? ব্যতিক্রম থাকলে তার অনুমোদন ও যুক্তি কী?অর্থের বিনিময়ে পদায়ন বা পছন্দের কর্মস্থল নিশ্চিত করার অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত হবে কি? হলে তদন্তের দায়িত্ব কারা পালন করবেন?লটারির মূল নথি, নামের তালিকা, কার্যবিবরণী ও চূড়ান্ত পদায়ন আদেশ যাচাইয়ের জন্য প্রকাশ করা হবে কি?

এসব প্রশ্নের উত্তর দেওয়া সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। শুধু লটারি হয়েছে,এ কথা বললেই স্বচ্ছতার প্রশ্ন শেষ হয়ে যায় না। প্রক্রিয়াটি কীভাবে পরিচালিত হয়েছে, সেটিই এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

নিয়ম সবার জন্য সমান, নাকি পদায়নে প্রভাবশালীদের বাড়তি সুবিধা?

সরকারি প্রতিষ্ঠানে পদায়ন কোনো ব্যক্তির পছন্দ, প্রভাব কিংবা আর্থিক সামর্থ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত হওয়ার কথা নয়। একজন কর্মকর্তা নিয়ম মেনে কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন করবেন, আর অন্য কেউ বিশেষ সুবিধায় পছন্দের জায়গায় থাকবেন,এমন অভিযোগ উঠলে তার নিরপেক্ষ ব্যাখ্যা প্রয়োজন।

অভিযোগ সত্য হলে তা প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, ন্যায়সংগত সুযোগ এবং প্রতিষ্ঠানের প্রতি কর্মকর্তাদের আস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। অন্যদিকে অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ না থাকলে সেটিও স্পষ্ট হওয়া জরুরি, যাতে কোনো কর্মকর্তা অযথা অভিযুক্ত না হন।

তাই এই বিতর্কের নিষ্পত্তি হওয়া উচিত তিনটি ভিত্তিতে,নথি প্রকাশ, সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য এবং নিরপেক্ষ তদন্ত। লটারির পদ্ধতিতে অনিয়ম প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। আর অভিযোগের ভিত্তি না পাওয়া গেলে সেই সিদ্ধান্তের কারণও জনসমক্ষে পরিষ্কার করা উচিত।

লটারি কি সত্যিই নিরপেক্ষ ছিল, নাকি নিরপেক্ষতার আড়ালে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছিল? পাঁচটি বাক্সে নাম রাখার অভিযোগের ভিত্তি কী? ঢাকায় থাকার সুযোগ নিয়ে ঘুষের অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ আছে কি? আর পুরো প্রক্রিয়ায় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের ভূমিকা কী ছিল?

এসব প্রশ্নের উত্তর অনুমান দিয়ে নয়, দিতে হবে নথি ও প্রমাণের ভিত্তিতে। কারণ, সরকারি পদায়ন কোনো গোষ্ঠীর সুবিধা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা নয়, এটি প্রশাসনিক দায়িত্ব বণ্টনের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া।

এখন দেখার বিষয়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ লটারির পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশ করে বিতর্কের অবসান ঘটায়, নাকি নির্বাহী প্রকৌশলীদের পদায়ন ঘিরে ওঠা প্রশ্নগুলো জবাবহীনই থেকে যায়।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2026
Themes By BDITWork.Com